পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচন: প্রথম দফার ভোট গ্রহণ আগামীকাল

John Smith | আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৫ দুপুর

আগামীকাল বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪ আসনের নির্বাচন। প্রথম দফায় ভোট গ্রহণ হবে ১৬ জেলার ১৫২টি আসনে।

জেলাগুলো হলো—দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পশ্চিম বর্ধমান।

প্রথম দফার এই ১৫২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১ হাজার ৪৭৮ জন প্রার্থী। মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল ১ হাজার ৫২৫টি। সবচেয়ে বেশি ১৫ জন করে প্রার্থী রয়েছেন কোচবিহার দক্ষিণ ও ইটাহার আসনে।

নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি ২ হাজার ৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটে কোনো ধরনের হাঙ্গামা, বুথ দখল বা জাল ভোটের চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

ভোটকেন্দ্রে প্রবেশেও এবার কড়াকড়ি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভোটারদের নির্ধারিত পরিচয়পত্র দেখিয়ে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে স্লিপ সংগ্রহ করে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। দলীয় নেতা-কর্মীদের অবাধ প্রবেশ বন্ধ রাখা হবে এবং ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটার এলাকার মধ্যে আলাদা ক্যাম্প থাকবে।

এরই মধ্যে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে দুই তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া নেতারা হলেন বীরভূমের ডালিম শেখ ও মুর্শিদাবাদের রাজু মণ্ডল।

নির্বাচন কমিশন আরও সতর্ক করেছে, ভোটারদের ভয় দেখানো, বাধা দেওয়া, হামলা করা বা ভোটপ্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হবে। পাশাপাশি মোটরসাইকেল চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলাচল করতে হবে এবং রাতে মোটরসাইকেল চলাচলে কড়াকড়ি থাকবে।

এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গতকাল মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে একাধিক জনসভায় অংশ নেন। তিনি জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগপর্যন্ত তিনি রাজ্যে থাকবেন। মঙ্গলবার রাতে তিনি নিউটাউনের বিজেপি কার্যালয়ে দলের রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন।

অন্যদিকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম দফার ভোটের প্রচার শেষের প্রাক্কালে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বিজেপিকে হারিয়ে তৃণমূলকে আবার ক্ষমতায় আনুন। তৃণমূলই রাজ্যে শান্তি দিতে পারবে।’

রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, লোকভবনে একটি হেল্পলাইন ডেস্ক চালু করা হয়েছে, যাতে ভোটসংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ দ্রুত জানানো যায়।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ হবে ২৯ মে। আর ফল ঘোষণা হবে ৪ মে।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.