ইরান–যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা হুতিদের

আহমেদ ফারুক | আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৭ দুপুর

আরব সাগর থেকে লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব–এল-মান্দেব প্রণালি। স্যাটেলাইট থেকে ধারণ করা ছবি। ১২ জুলাই ২০২৬ | ছবি: রয়টার্স।

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। আজ সোমবার ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটির এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ নতুন মাত্রা পেল। পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যেও নতুন ঝুঁকি তৈরি হলো।

এক বিবৃতিতে হুতিদের সশস্ত্র বাহিনী বলেছে, ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরব ‘অন্যায্য ও নিপীড়নমূলক অবরোধ’ আরোপ করেছে। এর জবাবে ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির ভিত্তিতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে সমুদ্রপথে অবরোধ কার্যকর করা হচ্ছে। হুতিদের এ ঘোষণার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সৌদি আরবের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

টানা নবম দিনের মতো গতকাল রোববার দিবাগত রাতে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে মার্কিন স্বার্থ–সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে তেহরান। নতুন করে শুরু হওয়া এই পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশের মধ্যে গত মাসে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক কার্যত ভেঙে পড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে হুতিরা এই ঘোষণা দিল, যখন পাল্টাপাল্টি হামলা সত্ত্বেও কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। হুতিদের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছু সময়ের জন্য বেড়ে যায়। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তা আবার কমে আসে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে গেলে আরব সাগর থেকে লোহিত সাগরে প্রবেশের পথ বাব–এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য হুতিদের ওপর চাপ দিচ্ছিল তেহরান। প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ হলে বিশ্বে জ্বালানি তেলের সরবরাহ প্রায় ৭ শতাংশ কমে যেতে পারে। উপসাগরীয় যুদ্ধের কারণে এরই মধ্যে বিশ্বে তেল সরবরাহ প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে।

 

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.