ট্যাপের পানি থেকে ৯৮ শতাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক দূর করে শজনে

John Smith | আপডেট: ৩ মে ২০২৬, ৩:৩৫ দুপুর

শজনে

বাংলাদেশে অতিপরিচিত গাছ শজনে। গাছটিকে ‘মিরাকল ট্রি’ বা অলৌকিক গাছ বলেও সম্বোধন করেন অনেকে। কারণটা কী? আসলে শজনে পৃথিবীর অন্যতম পুষ্টিগুণসম্পন্ন গাছ। রোগবালাই নিরাময়ের জন্যও এই গাছের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। এখন নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ট্যাপের পানি থেকে ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক দূর করতে পারে শজনে বীজের নির্যাস।

গবেষণাটি করেছেন যুক্তরাজ্য ও ব্রাজিলের একদল বিজ্ঞানী। গবেষণাপত্রটি চলতি মাসেই প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকেরা শজনের বীজ নিয়ে এক দশক ধরে গবেষণা করেছেন। তাঁরা গুরুত্ব দিয়েছেন শজনে বীজের একটি বিশেষ গুণকে। সেটি হলো পানিতে থাকা অতি ক্ষুদ্র কণা জমাট বাঁধতে সহায়তা করে এই বীজের নির্যাস। জমাট বাঁধা ওই কণাগুলো পরে সহজেই ফিল্টার করে আলাদা করা যায়।

মাইক্রোপ্লাস্টিকও অতিক্ষুদ্র কণা। এগুলো এতটাই ছোট যে এর আকার এক ইঞ্চির ২৫ হাজার ভাগের ১ ভাগ পর্যন্ত হতে পারে। মাইক্রোপ্লাস্টিক খাদ্য ও পানিকে ব্যাপকভাবে দূষিত করে। ২০২৪ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বের মোট ট্যাপের পানির ৮৩ শতাংশ নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। পানির মাধ্যমে এই কণা মানুষের শরীর, মস্তিষ্ক, প্রজনন অঙ্গ ও রক্তনালিতে প্রবেশ করে।

নতুন গবেষণাপত্রের লেখকদের একজন ব্রাজিলের সাও পাওলো স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আদ্রিয়ানো গন আলভেস দোস রেইস। তাঁরা গবেষণায় যে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছিলেন, সেগুলোর আকৃতি মানুষের চুলের পুরুত্বের চার ভাগের এক ভাগ। গবেষণায় দেখা গেছে, সেই মাইক্রোপ্লাস্টিক ট্যাপের পানি থেকে ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ দূর করেছে শজনেগাছের বীজের নির্যাস।

গবেষকেরা বলছেন, শজনের বীজের নির্যাসকে পানি পরিশোধনের জন্য অ্যালুমিনিয়াম সালফেট বা ফিটকিরির মতো রাসায়নিকের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। এদিক দিয়ে অবশ্য শজনের বীজের বাড়তি একটি সুবিধা হলো, পানি পরিশোধনের সময় এর মাধ্যমে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি কম। অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যালুমিনিয়াম সালটেফ বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। ফলে দেখা দিতে পারে স্নায়বিক রোগ।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.