পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সহিংস ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে গতকাল বুধবার রাতে উত্তর চব্বিশ পরগনায় বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী দল বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
গতকাল গভীর রাতে উত্তর চব্বিশ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া অঞ্চলে চন্দ্রনাথকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় তাঁর গাড়িতে থাকা আরও এক যুবক গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি গাড়ির চালক নাকি চন্দ্রনাথের সহকর্মী, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ওই যুবককেও কলকাতার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর মধ্যমগ্রাম ও এ–সংলগ্ন এলাকায় প্রবল উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
চন্দ্রনাথ রথের মরদেহ একটি বেসরকারি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে সেখানে পৌঁছেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এর আগে ওই হাসপাতালেই চন্দ্রনাথ রথকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়। বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং এলাকাটি ঘিরে রেখেছে। শুভেন্দু অধিকারী সাম্প্রতিক নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছেন। তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চন্দ্রনাথ রথ অতীতে সরকারি চাকরি করতেন। তিনি ভারতীয় বিমানবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অবসর নেওয়ার পর তিনি শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর হয়ে কাজ করেছিলেন।

এই গাড়ির ভেতরে থাকা অবস্থায় চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা | ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গের প্রচারমাধ্যম শুভেন্দু অধিকারীর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারীকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, গতকাল রাতে বাড়ি ফেরার সময় একেবারে কাছ থেকে, কার্যত তাঁর গাড়ির জানালার কাচে নল ঠেকিয়ে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। হামলাকারীরা বাইকে বসে ছিল বলে জানা গেছে। তারা চন্দ্রনাথের গাড়িটি থামিয়ে কিছুক্ষণ গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই চন্দ্রনাথের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যে ব্যাপক সহিংসতা শুরু হয়েছে। বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা–কর্মীদের সংঘাতে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে দুই দলের তরফে জানানো হয়েছে। তবে রাজনৈতিক কারণেই এসব খুন হয়েছে নাকি অন্য কোনো কারণে, তা স্পষ্ট করে রাজ্য পুলিশ এখনো জানাতে পারেনি। ব্যাপক হারে রাজ্যে লুটপাট, পার্টি অফিসে হামলা, আগুন লাগানো থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক দলের কর্মীরা অনেকেই ঘরছাড়া। পুলিশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে যে সহিংসতা ও সন্ত্রাস দমনে তারা সব রকমভাবে চেষ্টা করছে। অসংখ্য ব্যক্তিকে সহিংসতার অভিযোগে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এরই মধ্যে রাজ্য বিজেপির প্রধান নেতার ব্যক্তিগত সহকারীকে খুনের জেরে সহিংসতা আগামী দিনে আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।