কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬৫, নিখোঁজ ৪৯৬

আহমেদ ফারুক | আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ৯:২১ সকাল

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের ধ্বংসাবশেষের দৃশ্য। ১১ আগস্ট, কালি, কলম্বিয়া।

কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে এখনো অভিযান চলছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা বুধবার জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত ২৬৫ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৪৯৬ জন।

গত সোমবার স্থানীয় সময় সকালে কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল পশ্চিমাঞ্চলের চোকো বিভাগের সান হোসে দেল পালমার এলাকায়। ভূমিকম্পের কম্পন পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়। কালি, পেরেইরা, মানিজালেস ও কিবদোর মতো শহরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়।

ভূমিকম্পের পর থেকে ৭০টির বেশি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটির মাত্রা ৪-এর ওপরে ছিল। ভূমিকম্পের পর এমন পরাঘাত স্বাভাবিক হলেও এগুলো উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তুলছে।

ভূমিকম্পে অনেক ভবন ধসে পড়েছে। কোথাও ভবনের একাংশ ধসে পড়েছে, কোথাও আবার পুরো ভবনই মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ জীবিত আছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন।

ভূমিকম্পটি দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁকে এমন একটি বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে।

সাংবাদিকদের দে লা এসপ্রিয়েলা বলেন, ‘আমাদের প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য এখন নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা।’

সরকার দুর্গত এলাকাগুলোতে জরুরি ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা পাঠাচ্ছে। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো সচল করার কাজও চলছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তাও আসছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মেক্সিকো ও এল সালভাদরও সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.