১০ বছর নিষিদ্ধ ছিলাম, শ্রীলেখার ক্ষোভ

John Smith | আপডেট: ৮ জুন ২০২৬, ৫:৪০ বিকাল

টলিউডে দীর্ঘদিন ধরে কানাঘুষা ছিল ক্ষমতা, প্রভাব আর ‘সিন্ডিকেট’ নিয়ে। তবে সেসব অভিযোগ খুব কমই প্রকাশ্যে এসেছে। এবার সেই নীরবতার দেয়ালে বড় ধরনের ফাটল ধরালেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র।

টলিউডের প্রভাবশালী সংগঠক ও প্রযোজক স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি একাধিক ফেসবুক পোস্টে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্বরূপ বিশ্বাস পশ্চিমবঙ্গের সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই। গত বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতার টালিগঞ্জ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পে কথিত চাঁদাবাজি চক্রের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগকারী একজন মেকআপশিল্পী। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন কাজ না পেয়ে সুযোগের খোঁজে গেলে অর্থ দাবি করা হয় এবং তা দিতে না পারায় তাঁকে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।

‘স্বরূপ একা দায়ী নন’
গ্রেপ্তারের পর শ্রীলেখা মিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, শুধু স্বরূপ বিশ্বাসকে দায়ী করলে হবে না, দায়ী সেই ব্যবস্থাকেও করতে হবে, যা এমন ক্ষমতাকেন্দ্রিক সংস্কৃতির জন্ম দেয়।

শ্রীলেখার ভাষায়, একজন মানুষ এক দিনে ‘স্বরূপ’ হয়ে ওঠেন না; তাঁকে তৈরি করে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা। সেই ব্যবস্থার সুবিধাভোগীরাও সমানভাবে দায়ী। শ্রীলেখার প্রশ্ন, যাঁরা একসময় স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করেছেন, তাঁদের ভূমিকা নিয়েও কি আলোচনা হবে?

অভিনেত্রী আরও স্মরণ করিয়ে দেন, একসময় স্বরূপ বিশ্বাস সম্পর্কে মাত্র একটি মন্তব্য করার কারণে তাঁকে ব্যাপক আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছিল। এখন সেই মানুষগুলোর অবস্থান কী—সেটাও জানতে চেয়েছেন তিনি।

‘আমাকে কার্যত ১০ বছর নিষিদ্ধ রাখা হয়েছিল’
সবচেয়ে আলোচিত মন্তব্যটি আসে তাঁর আরেকটি পোস্টে। শ্রীলেখা দাবি করেন, এক দশক ধরে তাঁকে কার্যত টলিউডে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষায়, তৃণমূল কংগ্রেস এবং শিল্পের নিয়ন্ত্রণকারী কিছু তথাকথিত শিল্পীর কারণে তিনি ‘ব্যান্ড’ বা নিষিদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।

এই অভিযোগ নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে শ্রীলেখা অভিযোগ করেছিলেন, রাজনৈতিক অবস্থান এবং স্পষ্টভাষী মনোভাবের কারণে তিনি কাজের সুযোগ হারিয়েছেন। তবে এবার তিনি সরাসরি ‘১০ বছর নিষিদ্ধ’ থাকার কথা বলায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

পোস্টে শ্রীলেখা সংবাদমাধ্যমের প্রতিও একধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বলেন, তিনি যা বলার ছিল, বলে ফেলেছেন। ভবিষ্যতে কেউ সাক্ষাৎকার নিতে চাইলে তাঁর সময় ও বক্তব্যের মূল্য দিতে হবে, না হলে তিনি আর সাক্ষাৎকার দেবেন না।

টলিউডে পুরোনো বিতর্ক আবার সামনে
স্বরূপ বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে টলিউডের বিভিন্ন সংগঠন, বিশেষ করে শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষমতাকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেও শিল্পের অভ্যন্তরে পক্ষপাত, প্রভাব খাটানো এবং নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, যদিও সেগুলোর বেশির ভাগই কখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের পর্যায়ে যায়নি।

এবার স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেপ্তারের পর অনেক টেকনিশিয়ান ও শিল্পকর্মী প্রকাশ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। ফলে টলিউডের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার রাজনীতি, কাজ বণ্টনের প্রক্রিয়া এবং শিল্পী-টেকনিশিয়ানদের ওপর চাপ সৃষ্টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.