শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে প্রায় ৪০০ ধরনের রোগ হতে পারে: এসেডবি

John Smith | আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৪:১৮ দুপুর

বাংলাদেশে হরমোনজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা নীরবে মহামারির আকার ধারণ করছে। বর্তমানে দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ কোনো না কোনো হরমোনজনিত সমস্যায় ভুগছেন।

তবে রোগ জটিল পর্যায়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত অধিকাংশ মানুষই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে প্রায় ৪০০ ধরনের রোগ হতে পারে।

গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর পরিবাগে অ্যাসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট অ্যান্ড ডায়াবেটোলজিস্ট অব বাংলাদেশ (এসেডবি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। বিশ্ব হরমোন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সহযোগিতা করেছে রেনাটা পিএলসি।

কেন বাড়ছে হরমোন সমস্যা

সংবাদ সম্মেলনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা জানান, মূলত জীবনযাত্রার অনিয়ম, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবই এই সংকটের প্রধান কারণ। এ ছাড়া পরিবেশগত প্রভাব যেমন প্লাস্টিকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, রাসায়নিক দ্রব্যের সংস্পর্শ এবং আধুনিক প্রযুক্তির বিকিরণ হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

এসেডবি–এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, শরীরে প্রায় ৫০ রকমের হরমোন থাকে। এগুলোর ভারসাম্য নষ্ট হলে ডায়াবেটিস, থাইরয়েড বা উচ্চ রক্তচাপের মতো মারাত্মক সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে কোনো অস্ত্রোপচার বা অন্য রোগের পরীক্ষা করতে গিয়ে হঠাৎ এসব রোগ ধরা পড়ে। এর ফলে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ জানতেই পারেন না যে তারা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

প্রতিরোধের উপায়

অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন জানান, অধিকাংশ হরমোনজনিত রোগই প্রতিরোধযোগ্য। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তিনি অপচিকিৎসা পরিহার করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের এন্ডোক্রাইনোলজি ও মেটাবলিজম বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ বলেন, হরমোন নিয়ে সামাজিক ট্যাবু বা ভুল ধারণা দূর করে বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার ওপর নির্ভর করতে হবে। অপচিকিৎসা বা অবৈজ্ঞানিক প্রচারণা থেকে দূরে থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণই হতে পারে সুস্থ জীবনের প্রধান চাবিকাঠি। পরিশেষে বলা যায়, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা শুধু একটি রোগ নয়, বরং শত শত রোগের ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই এখনই সময়—সচেতন হওয়া, জীবনযাত্রা বদলানো এবং সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া।

ঝুঁকিতে শিশু ও নারীরা—

বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, হরমোনজনিত সমস্যা এখন আর কেবল বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অতিরিক্ত স্ক্রিন-নির্ভরতা, খেলাধুলার অভাব এবং ফাস্টফুড আসক্তির কারণে শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে স্থূলতা ও ডায়াবেটিস দ্রুত বাড়ছে। এটি ভবিষ্যতে তাদের হৃদ্‌রোগ ও কিডনি জটিলতার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. শারমিন জাহান নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রসঙ্গে বলেন, নারীদের মধ্যে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস), অনিয়মিত মাসিক ও বন্ধ্যত্বের মতো সমস্যাগুলো এখন প্রকট। সামাজিক সংকোচ বা ট্যাবু ভেঙে বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এসেডবি–এর সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. রুহুল আমীন, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিনুল ইসলাম, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এ হালিম খান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নুসরাত সুলতানা, সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুরজাহান বানু, রেনাটা পিএলসির হেড অব মার্কেটিং (ডার্মা পোর্টফোলিও) মো. খায়রুল ইসলাম প্রমুখ।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.