ওবায়দুল কাদেরদের মতো রাজনীতিবিদদের জন্ম যাতে এ দেশে আর না হয়: ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর

আহমেদ ফারুক | আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৬, ৩:২৭ দুপুর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল | ফাইল ছবি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা একটি মামলায় আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি ট্রাইব্যুনালে বলেছেন, এ জাতীয় রাজনীতিবিদের জন্ম যাতে এ দেশে আর না হয়। জনগণের ম্যান্ডেটের দোহাই দিয়ে যাতে কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে না পারেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আজ বুধবার এই মামলায় ষষ্ঠ দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। এই মামলার আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনার মধ্য দিয়ে প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক আজ শেষ করলেন চিফ প্রসিকিউটর।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ। মামলার সব আসামি পলাতক।

যুক্তিতর্কে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ব্যক্তিগত দায় এই মামলার সব আসামির রয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের সবার ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ আছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, এ মামলার আসামিরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধ ঠেকাতে পারেননি। বরং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদের অপরাধ ঠেকানোর চেষ্টা না করে সরাসরি মারার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। ওবায়দুল কাদের জেনেশুনেই নির্দেশনা দিয়েছেন যে এই ধরনের নির্দেশনার ফলাফল কী হতে পারে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মামলার আসামিদের অপরাধ খুবই গুরুতর। হাজারো মানুষকে হত্যার জন্য তাঁরা দায়ী। ৩৫ হাজারের মতো মানুষকে গুরুতর জখম করার জন্যও তাঁরা দায়ী। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তাঁরা প্রমাণ করতে পেরেছেন। তাই আসামিদের সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। আসামিরা কোনো ধরনের অনুকম্পা পাওয়ার হকদার নয়।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.