গণ অধিকার পরিষদের ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা’ এ হামলা চালিয়েছে : আমির হামজা

আহমেদ ফারুক | আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ৩:৪৬ দুপুর

কুষ্টিয়ায় সংসদ সদস্য আমির হামজার ওপর হামলার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করা হয়। আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা অভিযোগ করেছেন, শান্ত কুষ্টিয়াকে অশান্ত করতেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে গণ অধিকার পরিষদের ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা’ গতকাল তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। দোষীদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা (আলটিমেটাম) দিয়েছেন তিনি।

আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আমির হামজা এই অভিযোগ করেন। আজ বিকেলে দলের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়া শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ আছে বলে তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলন থেকে সংসদ সদস্য আমির হামজা প্রশাসনের কাছে ৩ দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো—হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত গণ অধিকার পরিষদের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে রাজনৈতিক চাপমুক্ত হয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমির হামজা বলেন, ‘এই জেলার প্রশাসন নিষ্ক্রিয় এবং ব্যর্থ। এই জেলার যারা দায়িত্বে আছে, প্রশাসনে যে যেখানে দায়িত্বে আছে, সব ব্যর্থ। এদের দ্বারা নিরাপত্তা পাবার কোনো সম্ভাবনা আমাদের নেই।’

ঘটনার সময় আপনার (আমির হামজার) গাড়ির ভেতর থেকে লাঠি বের করা হয়েছিল-এক সাংবাদিক এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমার গাড়িতে সব সময় দুটি লাঠি রেখে দিই। কারণ, সরকারিভাবে এখনো অস্ত্রের লাইসেন্স করা নেই। সরকার এখনো বডিগার্ড দেয়নি বা নিইনি। সেই হিসাবে আমার নিজের সিকিউরিটির জন্য হেফাজতে (লাঠি) রাখি। যখন আমার ওপর হামলা হয়, তখন আমার চালক লাঠি হাতে নেমে যায়। আমি নিজে গাড়ি চালিয়ে যাই।’

সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল গফুর, কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য আবজাল হোসেন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে আমির হামজার গাড়িতে হামলার ঘটনায় থানায় এজাহার জমা দেওয়া হয়েছে। আজ বেলা সোয়া ১১টার দিকে আমির হামজার ব্যক্তিগত সহকারী মোমিন বিশ্বাস বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) হাতে এজাহারটি জমা দেন। এজাহারে গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের আসামি করা হয়েছে। ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর দুপুর ১২টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, এজাহার হাতে পেয়েছেন। মামলা রুজুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.