ডিএনএ পরীক্ষায় মিলেছে প্রমাণ, ২৭ বছর পর বাবার স্বীকৃতি পেলেন ছেলে

John Smith | আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ৯:২৩ সকাল

শিশুটির যখন জন্ম হয়, তখন বাবা বিদেশে ছিলেন। জন্মের আগেই মা–বাবার বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। বাবাকে না দেখা শিশুটি বড় হতে থাকে মামার বাড়িতে। বড় হওয়ার পর তিনি জানতে পারেন তাঁর বাবা বিদেশ থেকে ফিরে আরেকটি বিয়ে করেছেন।

দেশেই আছেন তিনি। বাবার মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ছেলে। চান স্বীকৃতি। কিন্তু বাবা তাঁকে ছেলে হিসেবে মানতে নারাজ। একপর্যায়ে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা লিগ্যাল এইড চট্টগ্রাম কার্যালয়ে বাবার স্বীকৃতি চেয়ে আবেদন করেন ছেলে। গতকাল মঙ্গলবার বাবার কাছ থেকে সেই স্বীকৃতি পেলেন ছেলে। জন্মের ২৭ বছর পর বাবা তাঁকে প্রথমবারের মতো বুকে টেনে নেন।

জানা গেছে, আদালতের নির্দেশে মা, বাবা ও ছেলের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেখানেই নিশ্চিত হওয়া গেছে, ছেলের দাবি সঠিক। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডিএনএ প্রতিবেদনটি লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে পাঠায়। গতকাল মঙ্গলবার সেখানে বাবা ছেলেকে সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দেন। পাশাপাশি সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার, ঘর করার জন্য দুই লাখ টাকা, পাড়া–প্রতিবেশীসহ আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে সন্তানকে পরিচয় করে দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকারনামাও করেন বাবা।

লিগ্যাল এইড চট্টগ্রাম কার্যালয়ের লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী জজ) সুব্রত দাশ প্রথম আলোকে বলেন, বাবা তাঁর সন্তানকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। দুজন দুজনকে বুকে জড়িয়ে ধরেছেন। লিগ্যাল এইড চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে তাঁদের দুজনকে টি-শার্ট উপহার দেওয়া হয় দীর্ঘদিনের বিরোধে মীমাংসায় দুজন এগিয়ে আসায়।

আদালত সূত্র জানায়, জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার এক প্রবাসী তাঁরই প্রতিবেশী নারীকে বিয়ে করেন। কিন্তু সন্তান জন্মের আগেই দুজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বিদেশে চলে যান ওই ব্যক্তি। পরে এসে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এদিকে ওই নারীর সন্তান তাঁর বাবার বাড়িতে বড় হতে থাকেন। ছেলে বড় হওয়ার পর তাঁর বাবার পরিচয় জানতে চান। একটিবার বাবা বলে ডাকার জন্য তিনি ছুটে যান ওই প্রবাসীর কাছে। কিন্তু বিষয়টি ঝুলে থাকে। কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২৪ সালের জুন মাসে ছেলে তাঁর বাবার স্বীকৃতি চেয়ে লিগ্যাল এইড চট্টগ্রামে আবেদন করেন।

সেখানে হাজির হন বাবা। কিন্তু ছেলেকে তাঁর নিজের সন্তান হিসেবে মেনে নিতে রাজি ছিলেন না। পরে আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে প্রমাণ মেলে ছেলের দাবিই সঠিক। ডিএনএ প্রতিবেদন পেয়ে বাবা অবশেষে ছেলেকে মেনে নেন। টেনে নেন তাঁর বুকে।

চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা এরশাদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বাবা ও ছেলের পুনর্মিলনের দৃশ্যে লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

জন্মের ২৭ বছর পর স্বীকৃতি পেয়ে খুশি ছেলে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এত বছর বাবার পরিচয় দিতে পারতাম না। লোকজন নানা কথা বলত। এখন বাবা সন্তান হিসেবে মেনে নেওয়ায় সমাজে আর কারও কটু কথা শুনতে হবে না। এটি অনেক বড় আনন্দের।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.