ডায়াবেটিক রোগীর হজ প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত

John Smith | আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৫:৩৯ বিকাল

হজ পালন করতে প্রতিবছর লাখ লাখ মুসলমান সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় যান। ভিড়, দীর্ঘ হাঁটা, প্রচণ্ড গরম ও অনিয়মিত রুটিনের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিক রোগীসহ সবারই সঠিক প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

ডায়াবেটিক রোগীদের প্রস্তুতি

হজে যাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ অথবা এইচবিএওয়ানসি ভালো আছে কি না, তা যাচাই করা উচিত।

প্রয়োজনে ওষুধ বা ইনসুলিনের ডোজ পরিবর্তন করা লাগতে পারে। তাই পর্যাপ্ত ইনসুলিন, ওষুধ, গ্লুকোমিটার ও স্ট্রিপ এবং ব্যবস্থাপত্র ও মেডিকেল আইডি সঙ্গে রাখতে হবে।

গরম আবহাওয়ায় ইনসুলিন সংরক্ষণে সতর্ক থাকতে হবে। ঠান্ডা ব্যাগ বা ইনসুলিন কুলার ব্যবহার করা উত্তম। অতিরিক্ত হাঁটা ও অনিয়মিত খাদ্য গ্রহণে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা হাইপারগ্লাইসেমিয়া হতে পারে।

তাই সর্বদা সঙ্গে রাখতে হবে চিনি, খেজুর অথবা গ্লুকোজ ট্যাবলেট। ব্যস্ততার মধ্যেও নির্দিষ্ট সময়ে খাবার গ্রহণ করা জরুরি।

পায়ের যত্নও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করতে হবে এবং প্রতিদিন পা পরীক্ষা করতে হবে। ক্ষুদ্র কোনো ক্ষত বা ফোসকা অবহেলা করা যাবে না।

পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। শরীর যাতে কোনোভাবে ডিহাইড্রেড (পানিশূন্য) না হয়, তা সতর্কতার সঙ্গে খেয়াল রাখুন। অতিরিক্ত ক্লান্তি হলে বিশ্রাম নেওয়া উচিত।

সঠিক পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যসচেতনতা থাকলে হজ পালন নিরাপদ হয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও ওষুধ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সুস্থ ব্যক্তিদেরও শারীরিক সক্ষমতা ও সতর্কতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

ডায়াবেটিস না থাকা ব্যক্তিদের প্রস্তুতি

যাঁদের ডায়াবেটিস নেই, তাঁদেরও শারীরিকভাবে প্রস্তুত থাকা জরুরি। হজের আগে সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষাগুলো করানো ভালো। বিশেষ করে যদি উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ বা শ্বাসকষ্টের ইতিহাস থাকে তাহলে সতর্কতা জরুরি। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কারণ, হজে অনেক হাঁটতে হয়। এতে সহনশীলতা বাড়বে। ক্লান্তি হবে কম।

গরমে হিট স্ট্রোক ও পানিশূন্যতা এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। ছাতা বা ক্যাপ ব্যবহার করুন। পরতে হবে হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক। সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় টিকা যেমন—মেনিনজোকক্কাল ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত।

সব সময় পরিচয়পত্র ও জরুরি যোগাযোগের নম্বর সঙ্গে রাখুন। ভিড়ের মধ্যে সতর্ক থাকতে হবে। চলাফেরা করতে হবে দলবদ্ধভাবে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। ছায়াযুক্ত স্থানে থাকুন। স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.