বৃক্ষমেলার অনুমতি নিয়ে বাহাদুর শাহ পার্কে বসানো শাড়ি–গয়না–কাবাবের দোকান সরল

আহমেদ ফারুক | আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৬, ৩:২৯ দুপুর

বাহাদুর শাহ পার্কে বসানো দোকান সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বৃক্ষমেলার অনুমতি নিয়ে পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্কে এসব দোকান বসানো হয়। আজ মঙ্গলবার সকালে | ছবি: সংগৃহীত

বৃক্ষমেলার অনুমতি নিয়ে পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্কে বসানো সব দোকান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, দোকানিদের কেউ মালপত্র গুছিয়ে নিচ্ছেন, কেউ বাঁশ ও ত্রিপলের তৈরি কাঠামো খুলছেন। পার্কের বিভিন্ন জায়গায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে চেয়ার-টেবিল, কাপড় ও দোকানের অন্যান্য সরঞ্জাম। অনেক জায়গায় শুধু বাঁশের কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে।

গত রোববার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) অভিযান চালিয়ে অননুমোদিত দোকান সরাতে ওই দিন রাত পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে না সরালে উচ্ছেদ অভিযানেরও ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর দোকানিরা নিজেরাই মালপত্র ও অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে নিতে শুরু করেন।

এর আগে শনিবার সরেজমিনে দেখা গিয়েছিল, বৃক্ষমেলার অনুমতি নিয়ে পার্কের ভেতরে খাবার, পোশাক, শাড়ি, গয়না, খেলনা, চুড়ি, থালাবাসন ও ঘর সাজানোর সামগ্রীসহ হরেক পণ্যের দোকান বসানো হয়েছে। ছিল দুটি বক্সিং যন্ত্রও। মেলার দেখভালের দায়িত্বে থাকা একজন প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন, ৬০টি দোকান বসানোর অনুমতি নেওয়া হয়েছে। তখন পর্যন্ত ৩৩টি দোকান বসেছিল। দোকানিদের ভাষ্য ছিল, প্রতিটি দোকানের ভাড়া দৈনিক তিন হাজার টাকা।

ডিএসসিসি সূত্র বলছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাদের ১০ দিনের জন্য ‘সবুজ আনন্দ মেলা ২০২৬’ আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অনুমতির উদ্দেশ্য বৃক্ষমেলা হলেও সরেজমিনে বৃক্ষমেলা–সংশ্লিষ্ট একটিমাত্র দোকান দেখা গেছে। ৬ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত পার্কে এই মেলা চলার কথা।

বিষয়টি নিয়ে ৮ আগস্ট ‘বৃক্ষমেলার অনুমতি নিয়ে পার্কে শাড়ি–গয়না–কাবাবের দোকান’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রথম আলো অনলাইনে প্রকাশিত হয়। প্রকাশের পর গত রোববার ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পার্কে অভিযান চালানো হয়। ডিএসসিসি তখন জানায়, বৃক্ষমেলার অনুমতি নিয়ে অননুমোদিত বাণিজ্যিক মেলা বসানোয় দর্শনার্থীদের চলাফেরা, বসা ও হাঁটায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছিল। বিক্রেতাদের সরে যেতে রাত পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাহাদুর শাহ পার্ক ঐতিহাসিক ও জনসাধারণের উন্মুক্ত স্থান। পার্কের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই আমাদের অগ্রাধিকার। অনুমতির বাইরে কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতে পার্ক ও মাঠের ব্যবহার অনুমোদনের ক্ষেত্রেও আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।’

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.