চাকরিজীবনে বেতন বড় নাকি সম্মান? জরিপে উঠে এল চমকপ্রদ তথ্য

John Smith | আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৮ দুপুর

সফল ক্যারিয়ার মানেই কি মাস শেষে মোটা অঙ্কের বেতন? যুগ বদলেছে, বদলেছে কর্মীদের চিন্তাধারাও। সাম্প্রতিক এক জরিপ বলছে,

সচ্ছলভাবে চলার জন্য বেতন গুরুত্বপূর্ণ হলেও সুখী হতে কর্মীরা এখন অন্য কিছু বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এমনকি ১০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির চেয়ে ভালো কর্মপরিবেশ ও মানসিক প্রশান্তিকে বড় করে দেখছেন তাঁরা। প্রায় ৩ হাজার ২০০ কর্মীর ওপর গবেষণা চালিয়ে এই চমকপ্রদ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান রিওয়ার্ড গেটওয়ে।

জরিপে উঠে আসা কর্মীদের চাওয়াগুলো—

১. ভালো থাকা বা ওয়েল–বিং

জরিপে অংশ নেওয়া ৫৮ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, ১০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির চেয়ে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা তাঁদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, যারা কর্মীর ভালো–মন্দের খেয়াল রাখে। এ ছাড়া ৫৫ শতাংশ কর্মী চান এমন একজন ম্যানেজার, তিনি কেবল কাজের অর্ডার দেবেন না; বরং কর্মীর মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও সহমর্মী হবেন।

২. নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতা

চাকরি মানেই কি ৯টা–৪টার ধরাবাঁধা নিয়ম? ৫৪ শতাংশ কর্মী মনে করেন, কাজের সময়ের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ থাকাটা বেতনের চেয়ে জরুরি। এ ছাড়া ৪৭ শতাংশ কর্মী কাজের জায়গার স্বাধীনতা চান। অর্থাৎ তাঁরা যদি নিজের সুবিধামতো সময়ে কাজ করার সুযোগ পান, তবে বাড়তি বেতনের আশা ছেড়ে দিতেও রাজি।

৩. শেখার সুযোগ ও স্বীকৃতি

প্রতি দুজনে একজন কর্মী (৫১ শতাংশ) মনে করেন, উচ্চ বেতনের চেয়ে চাকরিতে নতুন কিছু শেখার ও ব্যক্তিগত উন্নয়নের সুযোগ থাকা বেশি জরুরি। এর পাশাপাশি ৩৭ শতাংশ কর্মী চান ভালো কাজের জন্য একটু প্রশংসা ও স্বীকৃতি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আজকের প্রশংসা আগামী দিনের সাফল্যের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।

৪. আপন করে নেওয়া বা একাত্মতা

প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাত্মতা অনুভব করাকে ৫০ শতাংশ কর্মী বেতনের চেয়ে বেশি নম্বর দিয়েছেন। ৪৬ শতাংশ কর্মী এমন প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে চান, যাদের আদর্শ ও মূল্যবোধ তাঁদের নিজস্ব বিশ্বাসের সঙ্গে মিলে যায়। এ ছাড়া কর্মীরা তাঁদের ম্যানেজারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখাটাকেও বাড়তি আয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন।

চাকরিজীবনে বেতন অবশ্যই একটি বড় বিষয়, তবে সেটিই একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। কোনো চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে চাকরি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নিজেকে প্রশ্ন করুন—কোন বিষয়টি আপনাকে বেশি অনুপ্রেরণা দেয়? আপনার জীবনদর্শন ও ভবিষ্যতের লক্ষ্যের সঙ্গে বর্তমান কাজটি সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা ভেবে দেখুন। অনেক সময় অল্প বেতনের চাকরিতেও বেশি মানসিক শান্তি ও বিকাশের সুযোগ পাওয়া যায়, যা দীর্ঘ মেয়াদে সাফল্যের চাবিকাঠি হতে পারে।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.